“শক হুন দল পাঠান মুঘল” এর এই মহান দেশে মাটির প্রতিমা রা আজ পূজিত হয় মহা আড়ম্বরে। অথচ প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা লাঞ্ছিতা হয় প্রতি মা রা ঘরে ঘরে। জাতপাত, ধর্ম, আর শাসক-দেবতার লোভ এর হাত থেকে বাঁচাতে জাগরিত হোক নারীশক্তির মহাতেজ দীপ্ত আগুন। প্রতিটি নারীর মধ্যেই জ্বলে উঠুক অসুর নিধনের পরাক্রমী মহাশক্তি।

              হাথরসে জ্বলছে চিতা!!
এ বিশ্বের সব মানবী দেবীকে বলছি, দেখো,
                      চিতা জ্বলছে!!!!
ও চিতায় জ্বলেনি মনীষা বাল্মিকি!!
“বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও” এর এ দেশে জ্বলছে
মূল্যবোধ আর মানবতা,
বিবেক, মনুষ্যত্ব আর দেশের আইন,
উচ্চবর্ণের চার ধর্ষকের উচ্ছিষ্ঠ নারীমাংস জ্বলছে,
জ্বলছে শাসকের অহংকার।
            দাউদাউ, দাউদাউ করে জ্বলছে।
             জানি, ভুলতে পারোনি
পারোনি, পারোনি, পারোনি, নিশ্চিত পারোনি।
প্রতিক্ষণে জ্বলে চলেছো সে চিতার আগুনে।
অথচ সর্বত্র,
আঁতুড় ঘরে, রান্নাঘরে,
আন্দোলনে, কর্মযজ্ঞে, কুরুক্ষেত্রে
তোমাকেই দেখি।
                তুমি কি দেখনি!!!!
মানুষ পুরুষের মতো দেখতে এক প্রকার জীব
তোমার শিরদাঁড়া ভাঙছে,
তোমার জিভ কাটছে,
কেটে নিচ্ছে তোমার স্তন,
দুটো ঠ্যাং ধরে ছিঁড়ে ফেলছে তোমাকে,
লোহার রড ঢুকিয়ে দিচ্ছে তোমার গোপনাঙ্গে?

জাগো, জাগো হে মানবী দুর্গা
অমাবস্যার আঁধেরা ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল।
পুরাণের দুর্গার হাতে
যেমনি  করে অস্ত্র জুগিয়েছিল সমস্ত দেবতারা
আজও তোমার পাশে থাকবে সাহস জুগিয়ে
সত্যিকারের পুরুষ সাথী।

তুমি তন্বী, তুমি বহ্নি,
তুমি নগ্ন, তুমি সাধ্বী,
‘রুপং দেহি জয়ং দেহি’
পত্নীব্রতে, কন্যাব্রতে, বেশ্যাব্রতে,
গৃহকর্মে, সত্য ধর্মে,
নারায়নী নমস্তুতে।

ওই দেখো, তোমার সামনে জ্বলছে —
হাথরসের ছোট্ট মেয়ে মনীষা বাল্মীকির চিতা!!
পাক স্ট্রিট এর রাজপথে ঝরছে সুজেটের অশ্রু,
কামদুনির শিপ্রা ঘোষ হাত বাড়িয়ে
ডাকছে তোমাকেই,
শুনতে কি পাও নি —
কাটোয়ার আসিফা বানুর যন্ত্রণা ভরা হাহাকার ধ্বনি,
জলপাইগুড়ির রায়গঞ্জের ১৪ ও ১৬ বছরের
দুই কিশোরীর কান্না,,,,,,
ঘাটালের ৩৫ বছরের মায়ের লাশ
হাত বিছিয়ে আজও ডাকছে,,,,,

লক্ষ নারীর শান্ত আকাশে
যারা এঁকে দিয়েছে দিনের সূর্য কে,,,,,,
তোমার স্নিগ্ধ বাতাসে যারা ছড়িয়েছে
লালসার বিষ,,,,,,
পারবে তো তাকে ক্ষমা করতে????
না। এ অপরাধের ক্ষমা নেই।

জাগো, জাগো হে নারী শক্তি।
পথে এবার নামো মানবী দুর্গা,
নিশ্চিত সাথে পাবে সত্যিকারের  পুরুষ।
যারা মিথ্যে মোমবাতির মিছিলে হাঁটবে না,
ফেলবে না কুমিরের অশ্রু,
শাসকের পদলেহী ইলেকট্রনিক মিডিয়া চাইনা,
শঙ্খ বাজাও, উলুধ্বনি দাও,
এসো যুগান্তরের কবি
ধরো তোমার মশি,
গড়ে তোলো নারী-পুরুষের সমৃদ্ধ পৃথিবী।

জ্বলুক মনীষা বাল্মীকির চিতা,
পড়ে থাক কামদুনির শিপ্রা ঘোষ এর ক্ষতবিক্ষত দেহ,
কিংবা, আসিফার নগ্ন মাংসপিণ্ড,
নির্ভয়ার গোপনাঙ্গে ঢুকে থাক্ লোহার রড।

শাসকের চোখে চোখ রেখে বলো
—আমি বামে নেই, ডানে নেই,
গেরুয়ায় নেই , সবুজে নেই,
আমি মাওবাদীও নই,
এ আমার বাঁচার লড়াই।
হে মানবী দেবী —
হাঁটো যুগান্তরের মিছিলে,
আরও একটা ফুলন দেবী চাই,
চাই সংহার, সংহার, সংহার ।
নতুন করে জন্ম হোক ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ ।

আসমুদ্র হিমাচলে, গৃহস্থলে,
বিশ্বায়নে, রণাঙ্গনে,
অভিষ্ঠসাধনে, আন্দোলনে,
উচ্চাসনে, উদ্ভাসনে,
সাধারণী নমস্তুতে।
—————————-//—————-
               

Spread the Kabyapot
0 thoughts on “মানবী দেবী -সুশান্ত পাড়ুই”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *