Spread the love
          নিঃস্ব
✍️প্রদীপ চন্দ✍️
=================================
অফুরান প্রাচুর্যের মাঝে, ,,, নিঃস্ব  বসবাস
ফেলে আসা,,, সোনালী সময়গুলো,
যা ছিল একান্তই  আমার,,,,, 
বৃষ্টি ভেজা সেই সব সবুজ বিকেল, 
মায়ের স্পর্শের,  স্নিগ্ধ বকুল, 
আর  চুরমার হয়ে যাওয়া, রঙিন স্বপ্নগুলো, 
তোমার দেওয়া গুচ্ছ গুচ্ছ পলাশ,,,,, ! 

আজ নক্ষত্রের মত জ্বলছে, হারানো নীল দূরের আকাশে,,,,,!
যা ছিল  আত্মার নিবিরতায় এতকাল ,,,,, 
এক লহমার ব্যবচ্ছেদে মুছে যাওয়া  পাণ্ডুলিপি,,,,,, 
সমগ্র রক্ত কণিকায় মিশে ছিল যার অস্তিত্ব,,,,,,
আজ বাদ দেওয়া অঙ্গের মত পরিত্যক্ত ,,,,,,, 
এক পাহাড় হিমায়িত স্থবিরতা

এ দেহ   এখন শুধুই ছায়া ,,,,,,,,
পাতার নিচে পড়ে থাকা অন্ধকার

কেন আজও বাজাও বাঁশি,,,,,,, 
কেন বোঝোনা চার পাশে আমার 
হাজার বছরের প্রাচীর,,,,, আমি পরস্ত্রী,,,, আর তোমার নয়,,,,,,,!
সোনার খাঁচায়,,,নিরাপদ আশ্রয় এখন,,,,,, !!
পাখি কি হায় ! চায় খাঁচার  নিরাপত্তা,,,,,, !!

বুকে পেতে রাখা পাথরের নিচে 
লুকিয়ে রাখা  ইচ্ছেগুলো,,,

কেন অবুঝ, বারবার হানো করাঘাত, 
সব কাজ ভুল হয়ে যায়,,

রাতের স্বপ্নের  মিছিলে, কেন আজও হেঁটে চলো,,,,,,,কোন অভিলাষে
এ বক্ষ সমতলে,,,,,,তোমার শব্দেরা,,,ফুল হয়ে ঝোরে,,,,বদলে যায় তীক্ষ্ণ কাঁটায়,,,,তীব্র যন্ত্রনায় নিরন্তর বিদ্ধ,,,,,,, হই 
তোমার দেওয়া  পলাশ,, জমাট  বাঁধা রক্তের  মতো বুকের গহনে
কেন ভাঙাও ঘুম সময়ে অসময়ে,,,
এঁকে দাও তোমার তপ্ত ,,, চুম্বন,,,,,, 
নাসিকা স্নায়ুর কোষে কোষে তোমার পরিশ্রান্ত শরীরের সেই পরিচিত ঘামের গন্ধ,,,,,!!
আজও রয়ে গেছে

এমন মুঠো মুঠো প্রেম,,,,কেন দাও  আমায়,,,,
ভেসে যাই,,,,সর্বনাশের  অন্ধকারে,,,,,

কেন আজ এত চঞ্চলতা ,,,,
উথাল পাথাল  ঢেউ
সর্বনাশা ভাঙনের শব্দ কেন,,, উঁকি দেয় নীলিমার বুক চিরে,,, অতলে
পার ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে কি   অকূলে,,,,,,!!
চৈত্রের আগুনে পোড়া  নষ্ট শরীর,,,,
প্রবল জলোচ্ছাসে,,,,ধুয়ে নিয়ে যাবে 
চিতার ছাই,,,,,, ,
=================================
স্বত্ব @ প্রদীপ চন্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed

পুনরাবৃত্তি ©অঞ্জলি দে নন্দী, মম আমার বয়স তখন অধিক নহে। বিদ্যালয়ের নিম্ন শ্রেণীর ছাত্রী। বঙ্গ ভাষায় পাঠ্যরূপে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের কপালকুণ্ডলার কিয়দংশ পাঠ করান হইত। আমি শ্রেণীর খুব মেধাবিনী পঠিয়ত্রী ছিলুম। আমি প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রত্যেক বৎসর ঊর্ধ্ব শ্রেণীতে গমন করিতুম। ঐ পাঠ্যের এক পত্রে বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় কতৃক লিখিত হইয়াছিল, ” তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন? ” পাঠ্যে ওই অংশটির নাম ছিল, ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’। যাহা হউক- আমার চিত্তে এই বাক্যটি গভীরভাবে রেখাপাত করিয়াছিল। আমার সহিত উক্ত সময় নবকুমার বাবুর সহিত যেইরূপ ঘটিয়াছিল ঐরূপ কিছু ঘটিলে আমি তাহাকে ঠিক ঐরূপভাবেই গ্রহণ করিতুম। কিন্তু এই সময়ে আমি উহাকে পরিবর্তীত করিয়া লইয়াছি। এইরূপে – তুমি অতিশয় অধম সেইহেতু বলপূর্বক আমাকেও ঠিক তোমারই স্বরূপ অতি অধমে রূপান্তরিত করিতে চাহিতেছ। আমি অতি অধম না হইলে তুমি আমাকে কৌশলে এই ইহলোক হইতে পরলোকে পাঠাইয়া দিবে। সেইহেতু আমি মৃত্যুলোকবাসীনি না হইবার কারণ বসত তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার হেতু মিথ্যা অভিনয় করিয়া তোমাকে দৃশ্য করাইয়া চলিতেছি যে আমিও তোমার স্বরূপই অতি অধমে পরিণত হইয়াছি। বাস্তবিকই তোমার প্রচেষ্টা সার্থক হইয়াছে। আমি আর পূর্বের ন্যায় অতি উত্তম নহি। কিন্তু তুমি কদাপি বুঝিতে পার নাই যে আমি প্রাণে বাঁচিয়া থাকিবার নিমিত্ত তোমার সম্মুখে এইরূপ মিথ্যা, নকল অভিনয় করিতেছি। আদৌই আমি অধম হই নাই। পূর্বে যেইরূপ অতি উত্তম ছিলুম অদ্যাপি ঐরূপই বিদ্যমান রহিয়াছি। কেবলমাত্র একটি নকল আবরণ ধারণ করিয়াছি। নতুবা অকালে তোমার হস্তে আমার প্রাণ বিসর্জিতা হইত। তদপেক্ষা ইহা অধিকতর সঠিক পথ বলিয়া আমা কতৃক ইহা বিবেচিতা।